বাঙালীবাবুর জলসাঘরে উজ্জ্বল বীরভূমের মুখ : জন্মদিনে ইন্দ্রনীলের সম্বন্ধে জেনে নিন নানান অজানা তথ্য : শুভ জন্মদিন

সাহিত্য হোক বা সংস্কৃতি বিশ্বের দরবারে বীরভূমের মুখ উজ্জ্বল করেছেন এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয় , কিন্তু সেই তালিকায় সাম্প্রতিকতম ও কনিষ্ঠতম হিসাবে সংযোজিত হয়েছে কার নাম ? এর উত্তর অবশ্যই আমাদের সবার প্রিয় বাঙালীবাবু বীরভূমিপুত্র ইন্দ্রনীল দত্ত । সম্প্রতি জি বাংলা “সা রে গা মা পা “-র অন্যতম সফল সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে তার উত্থান নিঃসন্দহে চমকপ্রদ এবং ঈর্ষণীয় । আজ বাঙালীবাবুর শুভ জন্মদিনে বাংলা খাতার পক্ষ থেকে অনেক শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর সম্পর্কে অনেক জানা অজানা কথা তোমাদের জন্য তুলে ধরবো এই প্রতিবেদনে , এবং তাঁর সফল একজন সঙ্গীতশিল্পী হয়ে ওঠা কেনই বা চমকপ্রদ তাও বলবো তোমাদের ।

বীরভূমের বোলপুরে

বীরভূমের সিউড়ী থানার প্রত্যন্ত বড় আলুন্দা গ্রামে জন্ম এবং বড় হওয়া । জীবনের প্রথম ১২ টা বছর এই গ্রাম থেকে শহরে নিত্য যাওয়া আসা করে পড়াশুনা ও গানবাজনার তালিম শুরু ইন্দ্রনীলের ।
ছোট থেকেই নানান সৃজনশীল কাজের প্রতি ইন্দ্রনীলের ছিল প্রবল ঝোঁক। উল্লেখ্য, তাদের গ্রাম বড় আলুন্দায় কোনো রথযাত্রা হত না। ছোটোবেলায় ইন্দ্রনীলের ছোট মনে হঠাৎ সাধ জাগে সে রথ উৎসব উদযাপন করবে! ব্যাস, সেই শুরু হল কিছু সঙ্গীসাথী কে নিয়ে রথ বানানোর তোড়জোড়…আজ তাদের গ্রামে খুব ধুমধামের সাথে রথযাত্রা পালিত হয়। সবটাই ইন্দ্রনীলের চেষ্টায়।

সৌজন্যে জী বাংলা

গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম ঠিকই কিন্তু বাড়িতে ছিলনা কোনো সঙ্গীতশিক্ষার পরিবেশ । একপ্রকার মায়ের প্রবল উত্সাহ ও অনুপ্রেরণায় তার সঙ্গীতশিক্ষা শুরু গুরু শান্তব্রত নন্দনের কাছে । বীরভূমের অহংকারের প্রতিষ্ঠান বীরভূম জিলা স্কুলে তাঁর ছাত্রাবস্থা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তাঁকে আকর্ষণ করতে থাকে । সেই টানেই আকাশবাণী কোলকাতায় শিশু শিল্পী হিসাবে ২০০৮ সালে যোগদান করে ইন্দ্রনীল । আকাশবাণীর সাথে তাঁর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আজও তেমনই অটুট আছে । কোলকাতার সঙ্গীত জগতে এই প্রাথমিক সাফল্য তাঁকে আরো উত্সাহিত করে তোলে ।

সৌজন্যে জী বাংলা

২০১৩ ও ২০১৫ সালে পরপর দুবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমি অ্যাওয়ার্ড তাঁকে কোলকাতার সমৃদ্ধ সঙ্গীত সমাজে একটি মর্যাদার আসন দেয় । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এর হাত থেকে পাওয়া “তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর” এর এই বার্ষিক পুরস্কারকে এখনো কোলকাতার গুণী সঙ্গীত সমাজে অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার হিসাবে গণ্য করা হয় ।

সৌজন্যে জী বাংলা

এই তিন বছর অর্থাৎ ২০১৩-২০১৬ ইন্দ্রনীলের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় । ইন্দ্রনীল সঙ্গীত শিক্ষার সুযোগ পায় বিশ্ববন্দিত পদ্মভূষণ পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী , শ্রীমতী হৈমন্তী শুক্লা , অপালা বসু সেন প্রমুখ সঙ্গীত ব্যক্তিত্বদের কাছে

শ্রীমতি হৈমন্তী শুক্লার সাথে

পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী এবং শ্রীমতি চন্দনা চক্রবর্তীর সাথে

আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি ; অসংখ্যবার অডিশনের পর ইন্দ্রনীল পেল সেই সুবর্ণ সুযোগ ; বিশ্ববাংলার দরবারে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ , জি বাংলা সা রে গা মা পা -র স্বপ্নমঞ্চ-টাকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ । তারপরের গল্পটা সবটাই আমাদের জানা; বিশ্ববিখ্যাত বিচারকদের গানে গানে মোহিত করে তোলার গল্প , সাধারণ এক সরকারী চাকুরের ছেলে হয়েও তার দেখা অসাধারণ স্বপ্নগুলোকে বাস্তব করে তোলার গল্প , বীরভূম জিলা স্কুলের এক প্রাক্তনী থেকে ” বাঙালীবাবু ” হয়ে ওঠার গল্প , সঙ্গীত শিক্ষার্থী থেকে শিল্পী হয়ে ওঠার গল্প , সঙ্গীত থেকে শত যোজন দূরে থাকা একটা পরিবারকে সঙ্গীতময় করে তোলার গল্প , সর্বোপরি একেরপর এক গানে আপামর বাঙালীর হৃদয় আকুল করার গল্প ।

শ্রেয়া ঘোষালের সাথে

স্বর্গীয় কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের সাথে

যে গল্প শুধু বীরভূম নয় , বাংলা নয় এমনকি বিশ্বের দরবারে নতুন করে আমাদের এই ছোট্ট মফস্বল শহর সিউড়ীকে মর্যাদা দিতে শিখিয়েছে ।
আজ ইন্দ্রনীলের জন্মদিন। জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা রইলো। কামনা করি ইন্দ্রনীলের সঙ্গীতময় জীবন আরো ভরে উঠুক সুরে সুরে গানে গানে ; আর তাঁর এই সাফল্য উত্সাহিত করুক আরো অনেককে তাঁদের জীবনের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়িত করতে ॥

Comments
x