শীতকাল জুড়ে এক চামচ ঘি! কেন ভালো জানেন কি?

কেউ বলে, ঘি খেলে নাকি ওজন বাড়ে। কেউ বলে, কোলেস্টেরল। যার থেকে দুর্বল হয় হৃদয়। ডাক্তারবাবুদেরও কি তাই-ই মত? একাধিক গবেষণা বলছে, ফি-দিন পাতে ১ চামচ ঘি খুবই স্বাস্থ্যকর। কারণ, ঘি মানেই একাধিক উপকারী ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই রোজ ঘি খেলে শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে একাধিক রোগ শরীরের ধারেকাছে ঘেঁষতে পারে না। তাই দুধ না খেলে যেমন আপনি ভালো থাকবেন না তেমনি পরিমিত পরিমাণে ঘি সবার ডায়েটেই রোজ থাকা দরকার…

হজমে উন্নতি ঘটায়: খাবার হজমে সাহায্যকারী নানা স্ট্যমাক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়াতে ঘি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এতে, বদহজম, গ্যাস-অম্বল কমে। এখানেই শেষ নিউট্রিশনিস্ট রুজুতা দিওয়াকারের কথায়, খিচুড়ি বা পুরান পুলির মতো খাবার হজম করাতেই এইসব রান্নায় ঘি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। ঘি যেকোনও রিচ রান্না ঝটপট হজম করায়।

পুষ্টির ঘাটতি মেটায়: প্রতিদিন ঘি খেলে শরীরে যেমন ভিটামিন এ এবং ই-র ঘাটতি মেটে তেমনি অ্যান্টি-অ্যাক্সিডেন্টের মাত্রাও বাড়ে। ফলে, পুষ্টির ঘাটতি দূর হওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ছোট-বড় কোনও রোগ ধারেকাছে ঘেঁষতে পারে না।

ভিটামিন শোষণ করে: বেশ কিছু স্টাডি বলছে, ঘিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ভিটামিনের শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে কখনও ভিটামিনের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। 

এনার্জি বাড়ায়: বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘিতে উপস্থিত উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিড এনার্জির ঘাটতি দূরে করে শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে। আবার শরীরকে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচায়। তাই, গরমে না হোক শীতকাল জুড়ে পাতে ঘি থাকতেই পারে।

শরীরের তাপ বাড়ায়: খাবার হজম হলে, এনার্জি লেভেল হাই হলে আপনা থেকেই শরীর গরম থাকবে। যা শীতকালে সর্দি-কাশি দূরে রাখতে সাহায্য করে। এই কারণেই ঠান্ডা থেকে বাঁচতে শীতকালে বেশি করে ঘি খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে: নিয়মিত ঘি খেলে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি দূর হয়। ফলে দৃষ্টিশক্তির যেমন উন্নতি ঘটে, তেমনি ছানি, গ্লকোমার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।

মগজাস্ত্র ধারাল হয়: নিউট্রিশনিস্টদের মতে, স্নায়ুর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্রেন পাওয়ারের উন্নতিতেও ঘি-এর কোনও বিকল্প নেই। এর মধ্যে উপস্থিত ওমেগা-৬ এবং ফ্যাটি অ্যাসিড শরীর এবং মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে এই দুই ফ্যাটি অ্যাসিড ডিমেনশিয়া এবং অ্যালঝাইমারসের মতো রোগ আপনার থেকে দূরে রাখে। তাহলে আজ থেকে ঘি খাচ্ছেন তো?

ক্যান্সার দূর হটো: ঘি-তে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি রেডিকাল কমিয়ে দেয়। ফলে কোষের বিন্যাসে পরিবর্তন হয়ে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, আমাদের দেশে অনেকেই রান্নায় ঘি দেন। এই অভ্যাস খুবই ভালো। কারণ ঘি-এর ‘স্মোকিং পয়েন্ট’ খুব হাই। ফলে বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলেও কোনও ক্ষতি হয় না।

৩৮-এও ১৮: ত্বক শুকিয়ে আপনি বুড়ি? আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বলছে, ঘি-এর মতো প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার দুটো নেই। এটি প্রচণ্ড শীতেও ত্বক এবং ঠোঁটের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন তাই অল্প পরিমাণ ঘি-এর সঙ্গে সামান্য জল মিশিয়ে মুখে মাসাজ করলে ৩৮-এও আপনি হাসতে হাসতে ১৮!

খুশকি কমে: ভাবছেন, ঘি-এর সঙ্গে খুশকির কী সম্পর্ক? অনেকেই হয়তো জানেন না, নিয়মিত স্কাল্পে ঘি লাগিয়ে মাসাজ করার পর হালকা গরম জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিলে খুশকির প্রকোপ কমবেই।

ওজন ঝরায়: একদম উলোটপুরাণ। ঘি তৈলাক্ত খাবার হলেও এতে ওজন বাড়ে না, ঝরে। একাধিক স্টাডি বলছে, ঘি-তে উপস্থিত এসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি ঝরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। এবং এতে তো ওজন কমবেই।

Comments
x