পড়াশোনায় অমনোযোগী? সারাক্ষণ মোবাইলে নিয়ে ব্যস্ত? পড়ুন সমস্যার সমাধান পাবেন

মুখে যতই বলি, বয়স একটা সংখ্যা মাত্র, জীবন কিন্তু অন্য গল্প শোনায়| বয়স যত সামনের দিকে গড়ায় তত জমে থাকা নানা স্মৃতি মনকে ধূসর করে| একইভাবে টিনএজ সমস্যার দিক থেকে এখনো আমরা মুখ ফিরিয়ে| ফলে, ছোট থেকেই নানা সমস্যায় জেরবার এই বয়স| যন্ত্রণা চাপতে গিয়ে বড়রা যেমন হারিয়ে ফেলেন সৌজন্যের মাত্রা বোধ, ছোটরা সবার থেকে সরিয়ে নেয়, গুটিয়ে নেয় নিজেদের|অনেকসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়| এই সমস্যা কি আপনার বাড়িতেও?

ঘটনা ১: যত দিন যাচ্ছে খাওয়া-ঘুম-শোয়ার মতই রোজের প্রয়োজনের অন্যতম উপাদান মোবাইল| whatsapp, instagram, facebook-এর নেশায় বড়রাই যেখানে যান্ত্রিক সেখানে ছোটদের দোষ কী? তারা তো আরও বেশি করে ডুব দেবে অজানাকে জানতে! তেমনই আনন্দিনী ভোজানি| ১৪ বছরের মেয়েটি দক্ষিণ কলকাতার এক নামী স্কুলের ছাত্রী| পড়াশোনায় এক সময় খুবই ভালো ছিল| এখন মোবাইল তাকে ‘গিলিয়াছে গোটা’| পড়া ছেড়েছে| বন্ধুদের সঙ্গে মেশা বন্ধ করেছে| কথা বলে না বাড়ির কারোর সঙ্গে| আনন্দিনী কি কোনদিন আবার আগের মতো হবে?

কেন হয়েছে— কারণ অনেক| এক, উচ্চ মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী বাড়ির জয়েন্ট ফ্যামিলির মধ্যে সবার থেকে একদম ছোট মেয়েটি মুখ থেকে কথা খসালেই হাতের মুঠোয় সব পায়| দুই, বাড়িতে শাসন করা হয় না একেবারেই| তিন, মেয়েটি স্কুলে লাগাতার মানসিক অত্যাচারের শিকার| সারাক্ষণ তাকে শুনতে হয় সে ‘বোকা’, ‘আনস্মার্ট’, ‘ছেলেমানুষ’|

এই তিন কারণে বিরক্ত আনন্দিনী মোবাইলে আশ্রয় খুঁজেছে| আরও একটা কারণে সে যন্ত্রটি ঘাঁটে| এর থেকে যদি চটপট করে বড় হওয়ার উপায় খুঁজে পায়! এই একই কারণে বন্ধু, বাড়ি সবার সঙ্গে মেশা, কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে| পড়াশোনাতেও উত্সাহ পায় না|

সমাধান— আনন্দিনীকে নিয়ে আমার সঙ্গে বাড়ির লোক দেখা করতেই প্রথমে পুরো ব্যাপারটা মন দিয়ে শুনি| তারপর শুরু করি ট্রিটমেন্ট| Impulse control skills (ধৈর্য বাড়ানোর চিকিত্সা), anger management skills (রাগ কমানোর চিকিত্সা) and social skills (মেলামেশা বাড়ানোর চিকিত্সা) দিয়ে শুরু হয় ট্রিটমেন্ট| কাউন্সেলিং-এর সঙ্গে ফোনেও কথা বলতে থাকেন এক্সপার্টরা| যাতে মেয়েটির মনে ক্ষোভ না জমে| সেই সঙ্গে স্কুলের প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলি, রাগিং বন্ধ করার জন্য| প্রিন্সিপালও আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেন| কড়া নজর রাখেন স্কুলের অন্য মেয়েদের ওপর| যাতে কেউআনন্দিনীকে বিরক্ত করতে না পারে|

একইভাবে কথা বলি পরিবারের বাকি লোকেদের সঙ্গে| তিনটি সেশনে তাঁদের শেখাই, কীভাবে টিনএজ ছেলেমেয়েদের সামলাতে হয়| এভাবে ৪ মাস চিকিত্সা চলার পরে আনন্দিনী অনেকটাই আগের মতো| পড়াশোনায় মন দিয়েছে আবার| বন্ধুদের সঙ্গে মিশছে| বন্ধুদের সংখ্যাও বেড়েছে| বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলছে| মোবাইল নিয়ে নাড়াচাড়া তুলনায় কমিয়েছে|

পড়ার পাশাপাশি এখন টেনিস খেলা শিখছে সে| আপাতত ২ মাস অন্তর একবার আসে আমার কাছে|আনন্দিনীর হাসিমুখ দেখে খুশি অর বাড়ির লোক| আমাদের দেশ এখনও বোঝে না, বয়ঃসন্ধি খুব স্পর্শকাতর| একে ঠিকমত বুঝতে না পারলে, ঠিকমত যত্ন নিতে না পারলে অভিমানে ঝরে যেতে পারে অনেক তাজা প্রাণ|

Comments

Leave a Reply